Jun
2011
Celebrities
যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
আমাদের মা-বাবার প্রতি একটি ‘প্রণাম’
ছেলেমেয়ে মেধাবী হলেই বিদেশ তাদের হাতছানি দেয়। এক দিন বিমানে চেপে
তারা পশ্চিমের আকাশে একটা বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যায়। বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে
দেশে থেকে যান তাদের বাবা-মা। তার পর? নিঃসঙ্গতা ক্রমেই লম্বা হতে থাকে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ছেলেটির ডাক নাম ডন। তার দুরন্তপনা ছিল আমাদের পাড়ায় অতি বিখ্যাত। চারতলা বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে সে সচরাচর নামত না। পাশের রেলিংয়ে চড়ে ঘোড়সওয়ারের মতোই সড়াত্ করে নেমে যেত এক এক তলা। এক বার সে ঘুড়ি ধরার জন্য ছাদের প্যারাপেটে নেমে হাঁটছিল, রাস্তায় লোক থেমে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে দেখছিল তাকে। সে বারে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি বটে, কিন্তু বেশ কয়েক বার এখানে সেখানে পড়ে গিয়ে মাথা ফাটিয়েছিল। ডাক্তারখানায় নিয়ে গিয়ে সেলাই করতে হয়েছে। এক বার সাতটা সেলাই। হাতে ধরে কালীপটকা ফাটাতে গিয়ে হাত ঝলসে গেল। আর একটি অসাধারণ কাণ্ড সে করেছিল, এক বার এক জন বেদে সাপখেলা দেখাতে এসেছিল আমাদের বাড়ির সামনে একটা রাস্তায়। হঠাs ডন তার ঝাঁপি থেকে একটা সাপ তুলে নিয়ে দে দৌড়। দর্শকরা ভয়ে ছিটকে সরে গিয়েছিল। সাপুড়েটি হা হা করে বলে উঠেছিল, ওই সাপটির নাকি বিষদাঁত ভাঙা হয়নি!
আমাদের মা-বাবার প্রতি একটি ‘প্রণাম’ছেলেমেয়ে মেধাবী হলেই বিদেশ তাদের হাতছানি দেয়। এক দিন বিমানে চেপে
তারা পশ্চিমের আকাশে একটা বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যায়। বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে
দেশে থেকে যান তাদের বাবা-মা। তার পর? নিঃসঙ্গতা ক্রমেই লম্বা হতে থাকে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
অনেক ছেলেই বাচ্চা বয়সে দুষ্টু থাকে। ডন ছিল দুষ্টুদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন। নিত্যনতুন গল্প শোনা যেত তার দুরন্তপনার। ইস্কুলেও সে প্রায়ই ডুব মারত। বাবা-মায়ের বেশি বয়সের একমাত্র সন্তান। তাই বোধহয় বেশি আদর ও প্রশ্রয়ে তার মাথা খাওয়া হচ্ছিল।
এই ধরনের ছেলে প্রাপ্তবয়সে কী হতে পারে? ঠিক মতন লেখাপড়া না শিখে মাস্তান কিংবা গুণ্ডাজাতীয় কিছু হওয়াই স্বাভাবিক। অথবা সে এক জন অসাধারণ মানুষও হয়ে উঠতে পারে। ডনের যখন তেরো-চোদ্দো বছর বয়স, তখন তার বাবা রমেনবাবু চাকরিতে বদলি হয়ে সপরিবার দিল্লি চলে যান। তখনই আমরা ভেবেছিলাম, এ ছেলে দিল্লির পাড়া প্রতিবেশীদের জ্বালিয়ে খাবে।
তার পর আর ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রইল না। কিন্তু ডন সম্পর্কে আমার কৌতূহল রয়েই গেল। অমন একটা চরিত্রের ছেলেকে, বিশেষত তার ওই সাপ চুরি করার ঘটনার জন্য, ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
সাত-আট বছর পর রমেনবাবুর সঙ্গে হঠাs দেখা এক মেট্রো স্টেশনে। আমি প্রথমে তাঁকে চিনতে পারিনি। তিনিই আমাকে ডাকলেন। ট্রেনে উঠে পাশাপাশি বসে যাওয়ার সময় অনেক গল্প হল। চাকরি থেকে রিটায়ার করার পর তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন। ফ্ল্যাট ভাড়া করেছেন যোধপুর পার্কে। কথায় কথায় তাঁর ছেলের প্রসঙ্গ এসে গেল। চাপা গর্বের সঙ্গে তিনি জানালেন যে, দিল্লিতে গিয়ে ডনের চরিত্রে একটা দারুণ পরিবর্তন এসেছিল। পড়াশোনায় সে দারুণ মনোযোগী হয়ে উঠে আই সি এস ই-তে ভাল রেজাল্ট করে এবং সহজেই দিল্লির আই আই টি-তে চান্স পেয়ে যায়। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সে সেকেণ্ড হয়েছে। এখন সে কোথায়? উত্তর তো অবধারিত, অবশাই আমেরিকায়। টেক্সাসের অস্টিন শহরে সে এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স করে এসে ভাল চাকরি করছে। সে একটা হিরের টুকরো ছেলে। প্রত্যেক উইকএণ্ডে টেলিফোনে বাবা-মায়ের খবরাখবর নেয়। এর মধ্যে তার মায়ের এক বার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে। তার সব খরচ ছেলে পাঠিয়েছে। ডন নামে সেই সাঙ্ঘাতিক দুষ্টু ছেলেটির এ হেন রূপান্তর খানিকটা চমকপ্রদ তো বটেই। তবে অসাধারণ কিছু নয়।
এরও বছর তিনেক পর এক দিন রমেনবাবু এলেন আমাদের বাড়িতে। তাঁর ছেলের বিয়ে। তাই পুরনো পাড়ার কিছু মানুষকে নেমন্তন্ন করতে চান। সন্তানের সাফল্য-কাহিনি অন্যদের জানাতে পারাটাই তো আসল সুখ। আমি সাধারণত বিয়ের নেমন্তন্ন এড়িয়ে যাই। রমেনবাবু পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। প্রাপ্তবয়স্ক ডনকেও এক বার চোখে দেখার ইচ্ছেও আমার ছিল।
খুব ছোটবেলায় যারা শান্তশিষ্ট থাকে, বড় হয়ে তারা খ্যাপা ষাঁড়ের মতন হয়ে যেতে পারে। আর বাচ্চাবয়সে যারা খুব দস্যিপনা করে, পরিণত বয়সে তারা হয় সভ্য ভদ্র। আমাদের ডন সেই থিয়োরির এক জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত। কোথায় সেই দুঃসাহসী, কারও কথা-না-মানা কিশোর, সে এখন সুঠাম যুবক, অত্যন্ত বিনীত ও নম্র। অনেক দিন কলকাতা-ছাড়া বলে তার মুখের ভাষা বেশি পরিমাণে ইংরেজি মিশ্রিত। তার মনোনীত পাত্রীটি এক গুজরাতি কন্যা। সে আমার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে এল। ডন তার বাবা-মায়ের মুখ এক উজ্জ্বল আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে।
রমেনবাবুর সঙ্গে আমার মাঝেমধ্যে আরও দেখা হয়েছে। খবর শুনেছি, ডন ইতিমধ্যে দুটি সন্তানের জনক। দু’বছর অন্তর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে। তবে আগের বারে সে কলকাতায় চার দিনের বেশি কাটাতে পারেনি। কারণ, আমদাবাদে তার শ্বশুরবাড়িতে শ্যালিকার বিয়ের উsসব ছিল।
কয়েক দিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম রমেনবাবুর নাম। তিনি মাঝারি ধরনের সরকারি অফিসার ছিলেন। এই ধরনের মানুষের সংবাদপত্রে নাম ওঠার যোগ্যতা থাকে না, যদি না খুন হন কিংবা অজ্ঞাত কারণে মৃত্যু হয়। রমেনবাবুর মৃতদেহ তাঁর প্রতিবেশীরা দু’দিন বাদে দরজা ভেঙে দেখতে পান। মেঝেতে হামাগুড়ির ভঙ্গিতে। খুব সম্ভবত তিনি মৃত্যুযন্ত্রণায় খাট থেকে নেমে দরজা খুলতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইনি আমার সেই চেনা রমেনবাবু ঠিকই, সর্বাধিকারী পদবি মিলে গেছে, যোধপুর পার্কের ঠিকানা। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছিল এক বছর আট মাস আগে। তখন বিদেশ থেকে তাঁদের পুত্র এসে শ্রাদ্ধ-শান্তি করে গিয়েছিল। সেই থেকে তিনি একেবারে একা। তার পর এই কাহিনিতে নতুনত্ব কিছু নেই। ডনের মতন আরও হাজার হাজার ছেলেমেয়ে যদি মেধাবী হয়, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় ভাল রেজাল্ট করে, তা হলেই নানান বিদেশ তাদের হাতছানি দেয়। সেখানকার বাতাস তাদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়। এক দিন বিমানে চেপে তারা পশ্চিমের আকাশে একটা বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যায়। বুকভরা কত রকম প্রত্যাশা নিয়ে দেশে থেকে যান তাদের বাবা-মা। প্রথম প্রথম ওই প্রবাসী সন্তানেরা দেশে ফিরে আসতে চায়। স্বদেশে উপযুক্ত সুযোগের অভাব কিংবা নানান কার্যকারণে সেই সব সংকল্প ক্রমশ পিছিয়ে যায়। ও দেশে তাদের ছেলেমেয়ে জন্মে গেলে সে সম্ভাবনা ক্রমশ সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ জোর করে ফিরেও আসে।
এই সন্তানেরা অধিকাংশই কিন্তু অকৃতজ্ঞ বা বাবা-মায়ের সম্পর্কে উদাসীন নয়। তারা টেলিফোনে নিয়মিত খোঁজখবর নেয়। মাঝে মাঝে দেশে আসে, প্রয়োজনে টাকা পাঠায়। শুধু একটা জিনিস তারা দিতে পারে না, বৃদ্ধবয়সে যা খুবই প্রয়োজনীয়, নিকট জনের সঙ্গ। নিঃসঙ্গতা অনেক কঠিন রোগের চেয়েও মারাত্মক। শুধু দু’জন বুড়োবুড়ি থাকলেও তাদের মধ্যে নিত্য খটাখটি হয়। যদি এক জন আগে চলে যায়, তা হলে অন্য জন সেই খটাখটি করতে পারে না বলেই আরও কষ্ট পায়।
একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, সারা ভারতে প্রবীণ-প্রবীণা, যাঁদের বলা হয় সিনিয়র সিটিজেন, তাঁদের সংখ্যা ৮১ লক্ষ। এঁদের মধ্যে আবার শতকরা ৩০ জনই সম্পূর্ণ একা। সম্ভবত শহর ও শহরতলিতেই এই পরিসংখ্যান গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিলে এঁদের সংখ্যা নিশ্চিত আরও বেশি হবে। কলকাতা শহরেও এঁদের সংখ্যা প্রচুর। তবে কলকাতা শহরে এমন একটা কিছু আছে, যা অন্য শহরে নেই। ‘দ্য বেঙ্গল’ নামে একটি সংস্থা কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় এই প্রবীণ-প্রবীণাদের জন্য গড়ে তুলেছে একটি সাহায্য কেন্দ্র। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রণাম’। কলকাতা পুলিশের নামে কিছু কিছু অভিযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু তারা কয়েকটি সেবামূলক সামাজিক কাজও করে। যেমন, তারা পথশিশুদের জন্য অন্তত চোদ্দোটি ইস্কুল নিয়মিত চালায়। এই প্রণাম-এর ব্যাপারেও কলকাতা পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতা বেশ আন্তরিক।
বালিগঞ্জ থানার প্রাঙ্গণে একটা জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে গড়ে উঠেছে প্রণাম-এর সহযোগিতা কেন্দ্র। সেখানে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মী। অর্থাs দিন বা রাতের যে কোনও সময়ে কোনও প্রবীণ-প্রবীণা আর্ত বা বিপন্ন হয়ে পড়লে ওই কেন্দ্রে ফোন করলেই সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পাবেন। কেন্দ্রের কর্মী টেলিফোনে বিপদের কারণটি জেনে নিয়ে স্থানীয় শাখায় খবর দেবেন। সেখান থেকে পুলিশ যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে সেই বাড়িতে। গুরুতর অসুস্থতার ব্যাপার হলে পাঠানো হবে অ্যাম্বুল্যান্স। প্রণাম-এর নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স তো আছেই, অন্য বেশ কয়েকটি চিকিsসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ব্যবস্থা করা আছে।
কলকাতার ৪৮টি থানার মধ্যে ওই পরিষেবা পরিব্যাপ্ত। প্রত্যেক থানাতেই এক জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর ও দু’জন হোমগার্ডকে এই ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিরিশটি হাসপাতালের সঙ্গে প্রণাম-এর ব্যবস্থাপনা আছে। এঁরা কোনও অসুস্থ মানুষকে পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে করা হবে চিকিsসার ব্যবস্থা। চিকিsসা ছাড়াও বাড়ি বা সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলাতেও পড়তে হয় কখনও কখনও। সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের উsপীড়ন করার তো লোকের অভাব হয় না। সে রকম সঙ্কটে বিশিষ্ট আইনজীবীরা বিনা খরচে ব্যবস্থা দিতে পারেন।
কিংবা কোনও সমস্যাই নেই তেমন, তবু গভীর রাতে হঠাs ভয় পেয়ে অথবা বিষণ্ণ হয়ে পড়তে পারেন, তখন কথা বলার এক জন সঙ্গীর জন্য মন আঁকুপাঁকু করে। সে রকম সময়েও সহায়তা কেন্দ্রের মহিলা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন ফোনে।
প্রণাম-এর সমস্ত পরিষেবাই বিনা মূল্যে। সরাসরি কাউকে অর্থ সাহায্য করা হয় না। যাঁরা সেবা পাচ্ছেন, তাঁদের কারও বাড়ি থেকে কোনও দানও গ্রহণ করা হয় না। প্রত্যেক থানা থেকে প্রবীণ-প্রবীণাদের সদস্য করার জন্য ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা আছে। এই উদ্যোগ যখন শুরু হয়, তখন যে দু’জন ফর্ম পূরণ করে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন, তাঁদের এক জন সুচিত্রা সেন, অন্য জন জ্যোতি বসু। এখন সদস্য সংখ্যা ৩৩১৩ জন। সদস্যরা হাসপাতালে বিশেষ ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। কয়েকটি ওষুধের দোকানেও কম দামে ওষুধ। বেশ কিছু শিল্পী, লেখক, গায়ক, অভিনয় জগতের মানুষ এবং পুলিশ কমিশনার ও কয়েক জন কর্তাব্যক্তি প্রণামের সঙ্গে জড়িত।
শুধু রোগভোগ আর সমস্যা নিয়েই তো জীবন নয়। এই প্রবীণ-প্রবীণার পারস্পরিক মেলামেশারও ব্যবস্থা আছে। যেমন, মাঝে মাঝেই হয় পিকনিক, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের ওয়ার্ল্ড কাপের সময় সাহায্য কেন্দ্রের পাশে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। সকলেরই জন্মদিনে পাঠানো হয় শুভেচ্ছা কার্ড। বিজয়া দশমী বা পয়লা বৈশাখে পাঠানো হয় মিষ্টি। সেই মিষ্টি এই বয়স্ক-বয়স্কারা খেয়ে নেন বটে, তার পরই মৃদু অভিযোগের সুরে বলেন, এই বয়সে মিষ্টি… নোনতা পাঠালেই ভাল হত!
প্রণাম-এর ফোন নং:
(০৩৩) ২৪১৯-০৭৪০
ই মেল আই ডি- mail@pronam.in
সাত-আট বছর পর রমেনবাবুর সঙ্গে হঠাs দেখা এক মেট্রো স্টেশনে। আমি প্রথমে তাঁকে চিনতে পারিনি। তিনিই আমাকে ডাকলেন। ট্রেনে উঠে পাশাপাশি বসে যাওয়ার সময় অনেক গল্প হল। চাকরি থেকে রিটায়ার করার পর তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন। ফ্ল্যাট ভাড়া করেছেন যোধপুর পার্কে। কথায় কথায় তাঁর ছেলের প্রসঙ্গ এসে গেল। চাপা গর্বের সঙ্গে তিনি জানালেন যে, দিল্লিতে গিয়ে ডনের চরিত্রে একটা দারুণ পরিবর্তন এসেছিল। পড়াশোনায় সে দারুণ মনোযোগী হয়ে উঠে আই সি এস ই-তে ভাল রেজাল্ট করে এবং সহজেই দিল্লির আই আই টি-তে চান্স পেয়ে যায়। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সে সেকেণ্ড হয়েছে। এখন সে কোথায়? উত্তর তো অবধারিত, অবশাই আমেরিকায়। টেক্সাসের অস্টিন শহরে সে এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স করে এসে ভাল চাকরি করছে। সে একটা হিরের টুকরো ছেলে। প্রত্যেক উইকএণ্ডে টেলিফোনে বাবা-মায়ের খবরাখবর নেয়। এর মধ্যে তার মায়ের এক বার হাঁটুর অপারেশন হয়েছে। তার সব খরচ ছেলে পাঠিয়েছে। ডন নামে সেই সাঙ্ঘাতিক দুষ্টু ছেলেটির এ হেন রূপান্তর খানিকটা চমকপ্রদ তো বটেই। তবে অসাধারণ কিছু নয়।(০৩৩) ২৪১৯-০৭৪০
ই মেল আই ডি- mail@pronam.in
